হযরত শেখ আবদুল্লাহ (রহমতুল্লাহ আলাইহি) বলেন, একবার আমি মদীনা মনোয়ারায় মসজিদে নববীর মেহরাবের কাছে এক বুজুর্গ ব্যক্তিকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখলাম। কিছুক্ষণ পর তিনি জেগে উঠলেন এবং জাগা মাত্রই রওজা পাকের কাছে গিয়ে হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি সালাম পেশ করলেন এবং মুচকি হেসে ফিরে আসছিলেন। সেখানকার একজন খাদেম তাঁর এ মুচকি হাসির কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি খুবই ক্ষুধার্ত ছিলাম। এ অবস্থায় আমি রওজাপাকে এসে ক্ষুধার অভিযোগ করি। স্বপ্নে আমি হুযুরকে দেখলাম। তিনি আমাকে এক কাপ দুধ প্রদান করলেন। আমি পেটভরে সেই দুধ পান করলাম। অতঃপর সেই বুজুর্গ…
Read MoreAuthor: Md Imran Hossen
রোমের বাদশাহের কয়েদী
স্পেনের এক নেককার লোকের ছেলেকে রোমের বাদশাহ বন্দী করেছিল। নেক কার লোকটি হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে আর্জি পেশ করার জন্য মদীনা মনোয়ারার উদ্দেশ্যে যাত্রা দিলেন। রাস্তায় এক বন্ধুর সাথে দেখা হলো, বন্ধু জিজ্ঞেস করলো, কোথায় যাচ্ছ? তখন সে বললো আমার ছেলেকে রোমের বাদশাহ বন্দী করেছে এবং তিনশ টাকা জরিমানা করেছে। আমার কাছে তো এত টাকা নেই যে, যা দিয়ে ওকে মুক্ত করতে পারবো। তাই আমি হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর কাছে ফরিয়াদ করার জন্য যাচ্ছি। বন্ধুটি বললো মদীনা মনোয়ারা যাওয়ার কি প্রয়োজন আছে। প্রত্যেক জায়গা থেকে তো হুযুরের…
Read Moreখুনীর মুক্তিলাভ
বগদাদের বিচারপতি ইব্রাহিম বিন ইসহাক এক রাতে স্বপ্নে হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) কে দেখলেন, হুয়ুর ওকে ফরমালেন, খুনীকে ছেড়ে দাও। এ নির্দেশ শুনে বাগদাদের বিচারপতি কম্পমান অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। তিনি জেলখানার কর্মকর্তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের জেল খানায় এমন কোন অপরাধী আছে কি, যে খুনী? কর্মকর্তারা বললো, হ্যাঁ, এমন এক ব্যক্তি আছে, যার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ রয়েছে। বিচারপতি নির্দেশ দিলেন, ওকে আমার সামনে হাজির কর। নির্দেশ মত হাজির করা হলো। বাগদাদের বিচারপতি জিজ্ঞেস করলেন, সত্যি সত্যি বল, ঘটনা কি? সে বললো, মিখ্যা কখনো বলবো না। যা বলবো, সত্যিই…
Read Moreদ্বীপপুঞ্জের কয়েদী
হররর ইবনে মীর বাইক বর্ণনা করেন যে, শকর দ্বীপে এক মুসলমানকে শত্রুরা গ্রেফতার করে হাত পা লোহার শিকল দ্বারা বেঁধে জেলখানায় পাঠিয়ে দিল। সেই মুসলমানটি হুযুর (সায়াল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর নাম নিয়ে ফরিয়াদ করলো এবং জোরে জোরে ইয়া রসুলল্লাহ বলতে লাগলো। কাফিরেরা এ শ্লোগান শুনে বললো, তোমার বসুলকে বল, যেন তোমাকে এ বন্দীদশা থেকে মুক্ত করতে আসে। যখন অর্ধরাত হলো, তখন জেলখানায় একজন লোক এসে সেই কয়েদীকে বললো, উঠ, আযান দাও। কয়েদী উঠে আযান দিতে শুরু করলো, اشهد ان محمدًا رَسُولُ الله ওর সর শিকল ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল এবং…
Read Moreআটকে পড়া জাহাজ
এক দ্বীনদার ব্যক্তিকে এক কাফির বাদশাহ বন্দী করেছিল। তিনি বলেন, বাদশাহের একটি বড় জাহাজ নদীতে আটকে গিয়েছিল। অনেক চেষ্টা করেও সেটাকে নদী থেকে বের করতে পারলো না। জেলখানা থেকে সমস্ত কয়েদীকে ডেকে আনলো, যেন সবাই মিলে জাহাজটি বের করার চেষ্টা করে। চার হাজারের মত কয়েদী আপ্রাণ চেষ্টা করেও জাহাজকে সরাতে পারলো না। তখন তারা বাদশাহের কাছে দিয়ে বললেন, জেলখানায় যে সব মুসলমান কয়েদী আছে, ওদেরকে বলতে পারেন, হয়তো ওরা জাহাজ সরাতে পারবে। তবে শর্ত হচ্ছে, ওরা সে শ্লোগান দেবে, সেটা থেকে বাঁধা দেয়া যাবে না। বাদশাহ এ শর্ত মেনে নিয়ে…
Read Moreএক সৈয়দজাদী ও এক অগ্নিউপাসক
সমরকন্দে এক বিধবা সৈয়দজাদী বাস করতেন। তাঁর কয়েকজন সন্তান ছিল। একদিন সে তাঁর ক্ষুধার্ত সন্তানদেরকে নিয়ে এক মুসলিম নেতার কাছে গেলেন এবং ওকে বললেন, আমি সৈয়দজাদী, আমার সন্তানগুলো উপবাস। ওদেরকে কিছু খেতে দিন। ধনদৌলতের মোহে বিভোর নাম সর্বস্থ সেই মুসলিমনেতা বললো, তুমি যদি সত্যিকার সৈয়দজাদী হও, তাহলে কোন প্রমান দেখাও। সৈয়দজাদী বললেন, আমি একজন গরীব বিধবা মহিলা, আমার কথা বিশ্বাস করুন, কি দলীল পেশ করবো? নেতা বললো, মুখের কথা বিশ্বাস করি না। দলীল দিতে না পারলে চলে যাও। সৈয়দজাদী সন্তানদেরকে নিয়ে ফিসে গেলেন এবং এক অগ্নিউপাসক নেতার কাছে গেলেন এবং…
Read Moreআবদুল্লাহ বিন মুবারক ও এক সৈয়দজাদা
হযরত আবদুল্লাহ বিন মোবারক (রহমতুল্লাহে আলাইহি) এক বড় সমাবেশ করে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন এক সৈয়দজাদা ওনাকে বললেন, হে আবদল্লাহ। এটা কেমন সমাবেশ? দেখুন আমি রসূলের আওলাদ এবং আপনার বাপতো এরকম ছিল না। হযরত আবদুল্লাহ বিন মুবারক জবাব দিলেন, আমি ঐ কাজ করছি, যা আপনার মানা জান করতেন এবং আপনি করতেছেন না। তিনি আরও বললেন, নিশ্চয় আপনি সৈয়দ এবং রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর বংশধর। এটাও সত্য যে আমার পিতা এ রকম ছিলেন না কিন্তু আপনার পিতা থেকে প্রাপ্ত ইলমের উত্তরাধিকারী হয়ে আমি প্রিয় পাত্র ও বুজুর্গ হয়ে গেছি। আর…
Read Moreশয়তানের থুথু
আল্লাহ তাআলা যখন হযরত আদম আলাইহিস সালামের দেহ মুবারক তৈরী করলেন, তখন ফিরিশতাগণ এটা দেখতে লাগলেন। কিন্তু অভিশপ্ত শয়তান। হিংসার আগুনে জ্বলতে লাগলো এবং হিংসা ও বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে হযরত আদম (আলাইহিস সালাম) এর দেহ মুবারকের উপর থুথু নিক্ষেপ করলো, এ ঘুধু গিয়ে পড়লো নাভিস্থলে। আল্লাহ তাআলা হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালামকে নির্দেশ দিলেন, ঐ জায়গা থেকে থুথু মিশ্রিত মাটিগুলো বের করে ফেল এবং সেটা দ্বারা কুকুর বানিয়ে দাও। নির্দেশ মুতাবেক শয়তানের বুথু মিশ্রিত সেই মাটি দ্বারা কুকুর সৃষ্টি করা হলো। কুকুর মানুষের ভক্ত এ জন্য যে, এর শরীরে আদমের মাটি…
Read Moreহযরত আদম আলাইহিস সালাম ও বনের হরিণ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম যখন জান্নাত থেকে পৃথিবীতে তশরীফ আনলেন, তখন পৃথিবীর বিভিন্ন পশু তাঁকে দেখার জন্য ভীড় জমালো। তিনি প্রত্যেক পশুর জন্য এদের উপযুক্ত দুআ করলেন। বনের কিছু হরিগও তাঁকে সালাম করা ও দেখার উদ্দেশ্যে হাজির হলো। তিনি স্বীয় হাত মুবারক ওদের পিঠের উপর বুলিয়ে দিলেন এবং ওদের জন্য দুআ করলেন। এতে ওদের নাভিতে মেশকের সুগন্ধি সৃষ্টি হয়ে গেল। এরা সুগন্ধির এ তোহফা নিয়ে যখন তাদের স্বজাতির কাছে ফিরে গেল, তখন প্রত্যেকে জি জ্ঞেস করতে লাগলো, তোমারা এ সুগন্ধি কোথা থেকে নিয়ে আসলে? ওরা বললো, আল্লাহর নবী হযরত আদম…
Read Moreনূহ আলাইহিস সালামের কিস্তি
হযরত নূহ আলাইহিস সালমের কউম বড় পাপিষ্ঠ ও অপরিনামদর্শী ছিল। হযরত নূহ আলাইহিস সালাম সাড়ে নয়শ বছর দিনরাত সত্যের প্রচার করা সত্ত্বেও ওদেরকে সৎপথে আনতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত উনি ওদের ভাংসের জন্য আল্লাহর কাছে এ বলে প্রার্থনা করলেন, হে আল্লাহ। ওদেরকে সমূলে ফাংস করে দাও। তাঁর এ বদলুআ কবুল হলো এবং আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিলেন, হে নুহা আমি এক ভয়ংকর জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করবো এবং ওসব কাফিরদেরকে ধ্বংস করে দিব। তুমি নিজের জন্য এবং তোমার মুষ্টিমেয় অনুসারীদের জন্য একটি কিশৃতী তৈরী করে নাও। নির্দেশ মুতাবেক হয়রত নূহ আলাইহিস সালাম জংগলে…
Read More