হরমুজ সংকট নিরসনে জাতিসংঘের সহায়তা চায় যুক্তরাষ্ট্র, সফল হবে কি নতুন প্রস্তাব?

হরমুজ সংকট নিরসনে জাতিসংঘের সহায়তা চায় যুক্তরাষ্ট্র, সফল হবে কি নতুন প্রস্তাব

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চলমান অবস্থায় হরমুজ প্রণালী সংকট সমাধানে জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরানকে “জাহাজে হামলা বন্ধ, মাইন অপসারণ এবং মানবিক সহায়তা চলাচলের সুযোগ দিতে” আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা মঙ্গলবার একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও কাতার যৌথভাবে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেছে।

প্রস্তাবটি পাস হলে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ খুলে যেতে পারে। পাশাপাশি তেহরান যদি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলা ও হুমকি বন্ধ না করে, তাহলে বলপ্রয়োগের অনুমোদনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ শান্তিকালীন সময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট Donald Trump দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে আসছেন।

গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প প্রশ্ন তুলেছিলেন, “জাতিসংঘের আসল প্রয়োজনীয়তা কী?”

তিনি আরও বলেন, “জাতিসংঘের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু তারা সেই সম্ভাবনার কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেনি।”

একই ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন জাতিসংঘের কোনো সহায়তা ছাড়াই “সাতটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসান” ঘটিয়েছে।

এ বছরের জানুয়ারিতে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় “বোর্ড অব পিস” গঠন করা হয়। তখন এক সাংবাদিক জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, এই বোর্ড ভবিষ্যতে জাতিসংঘের বিকল্প হতে “পারে”।

নতুন প্রস্তাবে কী রয়েছে?

যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় মিত্রদের উত্থাপিত নতুন প্রস্তাবে ইরানকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা বন্ধ, “অবৈধ টোল” আদায় বন্ধ এবং নৌপথে পাতা সব মাইনের অবস্থান প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।

খসড়া প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ইরানকে অবশ্যই জাতিসংঘের মানবিক করিডোর স্থাপনের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে হবে, যাতে খাদ্য, সার ও জরুরি পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়।

এর আগে একই ধরনের একটি প্রস্তাব চীন ও রাশিয়ার ভেটোতে বাতিল হয়ে যায়। ওই প্রস্তাবটি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ বৈধ করার পথ তৈরি করতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছিল।

নতুন খসড়ায় সরাসরি সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথা উল্লেখ না থাকলেও এটি জাতিসংঘ সনদের সপ্তম অধ্যায়ের আওতায় আনা হয়েছে। এই অধ্যায়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদ নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে সামরিক ব্যবস্থা পর্যন্ত অনুমোদন দিতে পারে।

রুবিও বলেন, নতুন ভাষাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ভেটো এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সেটি যথেষ্ট হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

ভোট কবে হতে পারে?

ওয়াশিংটন চাইছে দ্রুত আলোচনা শেষ করে শুক্রবারের মধ্যে চূড়ান্ত খসড়া বিতরণ করতে এবং আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ভোট আয়োজন করতে।

তবে চীন ও রাশিয়া এখনও নিজেদের বিকল্প প্রস্তাব বিবেচনায় রেখেছে।

চীনের জাতিসংঘ মিশন জানিয়েছে, তারা এখনও খসড়াটি পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Related posts

Leave a Comment