যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে আবারও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ইরান ইস্যুতে শীর্ষ সহযোগীদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে আলোচকদের তৈরি করা খসড়া প্রস্তাবে অনুমোদন দেননি ট্রাম্প। বৈঠক শেষে কোনো নতুন ঘোষণা ছাড়াই তিনি কক্ষ ত্যাগ করেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে ধোঁয়াশা।
তবে এখনো আশাবাদী হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, দুই দেশ চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে এবং আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, এখনো কোনো সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষ করে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা, পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানকে নিশ্চয়তা দিতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী উভয় দিকের নৌযান চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দিতে হবে এবং সেখানে পাতা সব মাইন অপসারণ করতে হবে।
বৈঠকের আগে ইরান জানিয়েছিল, তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করছে না। ফলে আলোচনার পরিবেশ শুরু থেকেই ছিল জটিল।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। জবাবে ইরান ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়।
সাম্প্রতিক সময়েও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে দুই দেশ। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও এখনো চূড়ান্ত সমাধানের পথ স্পষ্ট নয়।
সূত্র: বিবিসি
