আল্লাহ তাআলা যখন হযরত আদম আলাইহিস সালামের দেহ মুবারক তৈরী করলেন, তখন ফিরিশতাগণ এটা দেখতে লাগলেন। কিন্তু অভিশপ্ত শয়তান। হিংসার আগুনে জ্বলতে লাগলো এবং হিংসা ও বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে হযরত আদম (আলাইহিস সালাম) এর দেহ মুবারকের উপর থুথু নিক্ষেপ করলো, এ ঘুধু গিয়ে পড়লো নাভিস্থলে। আল্লাহ তাআলা হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালামকে নির্দেশ দিলেন, ঐ জায়গা থেকে থুথু মিশ্রিত মাটিগুলো বের করে ফেল এবং সেটা দ্বারা কুকুর বানিয়ে দাও। নির্দেশ মুতাবেক শয়তানের বুথু মিশ্রিত সেই মাটি দ্বারা কুকুর সৃষ্টি করা হলো। কুকুর মানুষের ভক্ত এ জন্য যে, এর শরীরে আদমের মাটি…
Read MoreCategory: Latest Posts
হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও বনের হরিণ
হযরত আদম আলাইহিস সালাম যখন জান্নাত থেকে পৃথিবীতে তশরীফ আনলেন, তখন পৃথিবীর বিভিন্ন পশু তাঁকে দেখার জন্য ভীড় জমালো। তিনি প্রত্যেক পশুর জন্য এদের উপযুক্ত দুআ করলেন। বনের কিছু হরিগও তাঁকে সালাম করা ও দেখার উদ্দেশ্যে হাজির হলো। তিনি স্বীয় হাত মুবারক ওদের পিঠের উপর বুলিয়ে দিলেন এবং ওদের জন্য দুআ করলেন। এতে ওদের নাভিতে মেশকের সুগন্ধি সৃষ্টি হয়ে গেল। এরা সুগন্ধির এ তোহফা নিয়ে যখন তাদের স্বজাতির কাছে ফিরে গেল, তখন প্রত্যেকে জি জ্ঞেস করতে লাগলো, তোমারা এ সুগন্ধি কোথা থেকে নিয়ে আসলে? ওরা বললো, আল্লাহর নবী হযরত আদম…
Read Moreনূহ আলাইহিস সালামের কিস্তি
হযরত নূহ আলাইহিস সালমের কউম বড় পাপিষ্ঠ ও অপরিনামদর্শী ছিল। হযরত নূহ আলাইহিস সালাম সাড়ে নয়শ বছর দিনরাত সত্যের প্রচার করা সত্ত্বেও ওদেরকে সৎপথে আনতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত উনি ওদের ভাংসের জন্য আল্লাহর কাছে এ বলে প্রার্থনা করলেন, হে আল্লাহ। ওদেরকে সমূলে ফাংস করে দাও। তাঁর এ বদলুআ কবুল হলো এবং আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিলেন, হে নুহা আমি এক ভয়ংকর জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করবো এবং ওসব কাফিরদেরকে ধ্বংস করে দিব। তুমি নিজের জন্য এবং তোমার মুষ্টিমেয় অনুসারীদের জন্য একটি কিশৃতী তৈরী করে নাও। নির্দেশ মুতাবেক হয়রত নূহ আলাইহিস সালাম জংগলে…
Read Moreনূহ আলাইহিস সালামের প্লাবন ও এক বৃদ্ধা
হযরত নূহ আলাইহিস সালাম যখন আল্লাহর নির্দেশে কিশতী বানাতে শুরু করলেন, তখন এক মুমিন বৃদ্ধা নূহ আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করলো, আপনি এ কিশতী কেন তৈরী করতেছেন? তিনি বললেন, এক মহা প্লাবন হবে, সেটায় সব কাফির ডুবে মারা যাবে এবং মুমিনগণ এ কিশৃতীর বদৌলতে বেঁচে যাবে। বুড়ী আরয করলো, হুযূর যখন তুফান আসার সময় হবে, তখন আমাকে খবর দিবেন যেন আমিও কিশতীতে আরোহন করত পারি। বুড়ীর কুড়ে ঘর শহর থেকে কিছু দূরে ছিল। তাই দুহ আলাইহিস সালাম অন্যান্য লোকদেরকে কিশতীতে উঠাতে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় বুড়ির কথা মোটেই স্মরণ ছিল না। শেষ…
Read Moreহযরত ওযাইর আলাইহিস সালাম ও আল্লাহর কুদরতের বিস্ময়কর নিদর্শন
ইসরাইল বংশের লোকেরা যখন আল্লাহর নাফরমানীতে সীমা অতিক্রম করলো, তখন আল্লাহ তাআলা বখতে নছর নামে এক জালিম বাদশাহকে ওদের উপর চাপিয়ে দিলেন। সে বনী ইসরাইলীদেরকে হত্যা, গ্রেপ্তার ও উৎখাত করলো এবং বায়তুল মুকাদ্দাসকে ধ্বংস ও ধুলিসাৎ করেদিল। হযরত ওযাইর আলাইহিস সালাম একদিন শহরে এসে দেখলেন যে শহর বিরান হয়ে গেছে। সারা শহরে কোন লোকজন দেখা গেল না। শহরের সমস্ত ইমারত বিধ্বস্ত দেখলেন। এ দৃশ্য দেখে তিনি ভীষণ আশ্চর্যান্বিত হয়ে বললেন- اني يحى هذه الله بعد موتها. এ মৃত শহরকে আল্লাহ পুনরায় কিভাবে জীবিত করবেন। তিনি এক গাধার উপর উপবিষ্ট ছিলেন…
Read Moreহযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও চারটি পাখী
হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম একদিন সমুদ্রের কিনারে একটি মরা মানুষ দেখলেন। তিনি দেখলেন যে সমুদ্রের মৎস্যকূল লাশটি খাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল যে কয়েকটি পাখী এসে লাশটি খেতে লাগলো। এর কিছুক্ষন পর আবার দেখা গেল যে বনের কিছু হিংস্র প্রাণী এসে সেই লাশটি খেতে লাগলো। তিনি এ দৃশ্য দেখে তাঁর মনে মৃতকে জীবিত করার দৃশ্যটা দেখার দরুন আগ্রহ সৃষ্টি হয়। অতএব তিনি আল্লাহর কাছে আরয করলেন, হে আল্লাহ! আমার বিশ্বাস আছে যে আপনি মৃতদেরকে জীবিত করবেন এবং ওদের অংগ প্রত্যংগ সামুদ্রিক প্রাণী, পশু পাখীর পেট থেকে সংগ্রহ করবেন। কিন্তু আমি এ…
Read Moreহযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের কুঠার
হযরত ইব্রাহীম আলাইসিস সালাম যখন জন্ম গ্রহণ করেন, এখন নমরুদের যুগ ছিল এবং মূর্তি পুজার খুবই প্রসার ছিল। হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম একদিন ওসব অগ্নি উপাসকদের বললেন, তোমাদের এটা কি ধরণের আচরণ যে, এসব মূর্তিদের সামনে মাথানত করে থাক। এরা তো উপাসনার উপযুক্ত নয়। একমাত্র আল্লাহ তাআলাই উপসনার উপযোগী। ওসব লোকেরা বললো, আমাদের বাপ-দাদাদের যুগ থেকে এ সব মূর্তিদের পুজা হয়ে আসতেছে। কিন্তু এখন তুমি এমন এক লোক সৃষ্টি হলে যে, ওসব মূর্তিদের পূজা থেকে বাঁধা দিচ্ছ। তিনি বললেন, তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদারা সবাই গুমরাহ। আমি যা বলছি, তাই হচ্ছে…
Read Moreহযরত ইব্রাহীম খলীলের সাথে নমরুদের বিতর্ক
হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম যখন নমরুনতে আয়াহর ইবাদত করার জন্য আহবান জানালেন, তখন ইব্রাহীম ও সমরুলের মধ্যে নিম্নের বিতর্ক হয়েছিলঃ নমরুদ। কে তোমার আল্লাহ, যার ইবাদত করার জন্য ভূমি আমাকে বলছ? হযরত খলীল আলাইহিস সালাম: তিনিই আমার আল্লাহ, যিনি জীবিতও ধরেন এবং মেরেও ফেলেন। নমরুদ: এ যোগ্যতাতো আমারও আছে। এখনই আমি জীবিত করে দেখাচ্ছি এবং মেরেও দেখাচ্ছি। এ বলে নমরুদ সুজন ব্যক্তিকে ডাকলো, ওদের একজনকে হত্যা করে ফেললো এবং অপরজনকে ছেড়ে দিল। অতঃপর বলতে লাগলো, দেখ, একজনকে আমি মেরে ফেলেছি এবং অপর জনকে গ্রেপ্তার করে ছেড়ে দিয়েছি, যেন ওকে জীবিত…
Read Moreনমরুদের অগ্নিকুন্ড
অভিশপ্ত নমরুদ হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের বিরুদ্ধে বির্তকে যখন নবায়িত হলো, তখন আর কিছু করতে না পেরে হযরতের জানের দুশমন হয়ে গেল এবং তাঁকে বন্দী করে ফেললো, অতঃপর চার দেয়ালের এক কাঠামো তৈরী করে ওখানে নানা ধরনের লাকড়ীর স্তূপ করলো এবং আগুন জ্বালিয়ে দিল, যার উত্তাপে আকাশে উড়ন্ত পাখী জ্বলে যেত। এরপর একটি নিক্ষেপন হাতিয়ার। তৈরী করলো, ওটার সাথে হযরত ইব্রাহীমকে বেঁধে আগুনে নিক্ষেপ করলো। হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের মুখে তখন এ কলেমা জারী ছিল। خشبي الله نعم الوكيل )আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি উত্তম কার্য নির্বাহক) এদিকে নমরুদ হযরত…
Read Moreহযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালামের পরিশ্রম
হুযুর (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার জিব্রাইল আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে জিব্রাইল। তোমাকে কি কোন সময় খুব দ্রুত গতিতে আসমান থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করতে হয়েছিল? জিব্রাইল জবাব দিলেন, হ্যাঁ, ইয়া রসুলুল্লাহ। চার বার এ রকম হয়েছে, খুবই দ্রুত গতিতে আমাকে পৃথিবীতে অবতরণ করতে হয়েছিল। হুযুর ফরমালেন, কোন কোন অবস্থায় সেই চার বার অবতরণ করতে হয়েছিল? জিব্রাইল আরয করলেন, প্রথমবার, যখন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামকে আগুনে নিক্ষেপ করা হলো, তখন আমি আরশের নিচে ছিলাম। আমাকে আল্লাহ নির্দেশ দিলেন, জিব্রাইল, আমার খলীল আগুনে পতিত হওয়ার আগে তুমি এক্ষুনি তথায় পৌছে যাও। তখন…
Read More