জুলেখা

জুলেখা খুবই সুন্দরী মহিলা ছিলেন। তিনি ছিলেন, তাইমুস বাদশাহের কন্যা। তিনি এক রাত্রে এক অপূর্ব সুন্দর যুবককে স্বপ্ন দেখলেন এবং ওকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কে? সে জবাব দিল আমি আজিজ মিসর। জুলেখার মনে এ স্বপ্নটা ভীষন রেখাপাত করলো এবং সর্বক্ষন সেই স্বপ্নটা তাঁর মনে জাগরুক রইলো। বড় বড় বাদশাহের পক্ষ থেকে বিবাহের প্রস্তাব আসলো, কিন্তু তিনি অসম্মতি জ্ঞাপন করলেন। এবং নিজের মনোভাব ব্যক্ত করে বলে দিলেন যে, তিনি আজিজ মিসর ব্যতীত অন্য কাউকে বিবাহ করবেন না। অতএব শাহ তাইমুস আজিজ মিসরের সাথে স্বীয় কন্যার বিবাহ দিয়া দিলেন। জুলেখা আজিজ মিসরকে…

Read More

সৌন্দর্যের প্রভাব

জুলেখা হযরত ইউসুফের প্রেমে স্বীয় হুঁশ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে ছিলেন। তাঁর এ প্রেমের কথা সারা মিসরে ছড়িয়ে গেল। অভিজাত ঘরের মহিলারা বলাবলি করতে লাগলো যে জুলেখা একটি যুবকের প্রেমে বিভোর হয়ে স্বীয় মান মানি), লজ্জা-শরমের কোন তোয়াকা করলো না। জুলেখা যখন তাঁর সম্পর্কে এ সব সমালোচনা শুনলেন, তখন একটি দাওয়াতের আয়োজন করলেন এবং এতে মিসরের অভিজাত পরিবাবের চল্লিশ জন মহিলাকে দাওয়াত দিলেন। মাওয়াত কৃত মহিলাদের মধ্যে ওসব মহিলারাও ছিল, যারা জুলেখার সমালোচনা করতো। জ লেখা ওদের বসার জন্য প্যান্ডেল তৈরী করালেন। একান্ত ইজ্জত সন্মানের সাথে ওদেরকে বসালেন এবং ওদের সামনে…

Read More

বাবুর্চী ও শরাব পরিবেশনকারী

জ্বলেখা ইউসুফ আলাইহিস সালামকে কোনঠাসা করার ও তাঁর বশে আনার উদ্দেশ্যে যে কোন বাহানায় ওনাকে জেল খানায় পাঠিয়ে দিলেন। যেদিন ইউসুফ আলাইহিস সালাম জেলে গেলেন, সেদিন তাঁর সাথে আরও দু’জন যুবককেও জেল খানায় প্রবেশ করানো হয়। এ দু’জন মিসরের বাদশাহ আমলেকীর বিশিষ্ট অনুচর ছিল। একজন ছিল শরাব পরিবেশন কারী এবং অপর জন ছিল বাবুর্চী। উভয়ের বিরুদ্ধে বাদশাহকে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ ছিল। জেল খানায় হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম তাঁর জ্ঞান গরিমা প্রকাশ করতে লাগলেন। তিনি। তথায় তৌহিদের প্রচার শুরু করলেন, এবং তিনি এটাও প্রকাশ করলেন যে, তিনি স্বপ্নের ভাবীর খুবই ভাল…

Read More

বাদশাহের স্বপ্ন

মিসরের বাদশাহ আয়ান বিন ওলীদ আমলেতী এক রাত্রে স্বপ্ন দেখলো যে, সাতটি রিষ্টপুষ্ট। গাভী, যেগুলোকে সাতটি দুর্বল গাড়ী খাচ্ছে এবং সাতটি তরতাজা গমের শীষ যেগুলোকে সাতটি শুকনো শীষ খাচ্ছে। বাদশাহ এ অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লেন। বড় বড় যাদুকর ও ভবিষ্যদ্বক্তার কাছে এ স্বপ্নের ভাবীর জিজ্ঞেস করলেন, কিন্তু কেউ এ স্বপ্নের ভাবীর করতে পারলো না। বাদশাহের শরাব পরিবেশন কারী, যে জেল খানায় ছিল এবং ইউসুফ আলাইহিস সালামের তাবীর মুতাবেক স্বীয় পদে বহাল হয়েছিল, সে বাদশাহকে বললো, জেলখানায় এমন একজন আলেম আছেন, যিনি স্বপ্নের তাবীর করার ব্যাপারে খুবই বিজ্ঞ।…

Read More

রাজমুকুট লাভ

হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামকে জেল থেকে মুক্তি দেয়ার পর, বাদশাহ আয়ান ইবনে ওলীদ খুবই সম্মানের সাথে তাঁকে তার পাশে সিংহাসনে বসালেন এবং যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, সেটা ইউসুফ আলাইহিস সালামকে নিজেই বর্ননা করলেন এবং ইউসুফ আলাইহিস সালামের পবিত্র মুখ থেকে এর তাবীর শুনলেন। হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম প্রথমে বাদশাহের দেখা স্বপ্ন সবিস্তারে বর্ননা করলেন। অতঃপর বিস্তারিত ভাবে পুরা স্বপ্ন হুবহু শুনায়ে দিলেন। এটা শুনে বাদশাহ আশ্চর্য হয়ে গেল এবং বললো, স্বপ্নতো অদ্ভুত ছিল কিন্তু এর থেকে অদ্ভুত হলো আপনার হুবহু বলে দেয়াটা। যাহোক তাবীর শুনে বাদশাহ ইউসুফ আলাইহিস সালামের পরামর্শ…

Read More

ইউসুফ ও জুলেখা

হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম মিসরের বাদশাহ হয়ে গেলেন, সমগ্র মিসর তাঁর অধীনে এসে গেল। জুলেখার স্বামী আজিজ মিসর মারা গেল এবং জুলেখা দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কিছু মনি মুক্তা সাথে নিয়ে এক জংগলে চলে গেল এবং সেখানেই একটি কুটীর বানিয়ে বসবাস করতে লাগলো। তখন তার সেই রূপ লাবন্য ও যৌবন বিলীন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তখন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের উত্থান ও ক্ষমতার ডংকা বাজতে ছিল আর জুলেখা এক কিনারে অখ্যাত হয়ে পড়ে রইল। একদিন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম সৈন্য সামন্ত সহ খুবই শান শওকতের সাথে সেই জংগল দিয়ে যাচ্ছিলেন। জুলেখা জানতে…

Read More

মহা দুর্ভিক্ষ

হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম মিসরের বাদশাহ হয়ে গেলেন এবং তিনি দেশে ন্যায় বিয়াত ও আইন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করলেন এবং আসন্ন দুর্ভিক্ষের কথা স্বরন রেখে বড় বড়। গড়ে তুললেন। অতঃপর দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। চারিদিকে হাহাকার। শুরু হলো। সমগ্র দেশ মহা মছিবতে পতিত হলো। চারিদিক থেকে লোকেরা শস্য ক্রয় করার জন্য মিসর আসতে লাগলো। হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম কাউকে এক উট বোঝাই এর অতিরিক্ত শস্য নিচ্ছিলেন না যেন সবাইকে সাহায্য করা যায়। কেনান শহরও এ মহা দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে পতিত হয়েছিল। হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম বিন ইয়ামিনকে বাদ দিয়ে তাঁর দশ ছেলেকে…

Read More

পান পাত্র নিখোঁজ

বিন ইয়ামিন তাঁর দশ ভাই সহ যখন মিসরে পৌঁছলো, তখন মিসরের বাদশাহ তাদের খুব সমাদর করলেন। একটি শাহী ভোজেরও আয়োজন করলেন। উক্ত ভোজে মিসরের বাদশাহ বসলেন বিন ইয়ামিনের সামনা সামনি এবং ওর কাছে এ রহস্য প্রকাশ করে দিলেন যে তিনি তার ভাই ইউসুফ। বিন ইয়ামিন এ কথা শুনে খুবই আনন্দিত হলো এবং ভাইকে বললো, ভাইজান। যে কোন উপায়ে আমাকে আপনার কাছে রেখে দিন। হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম বললেন, ঠিক আছে দেখা যাবে। ইউসুফ আলাইহিস সালাম সব ভাইদেরকে এক এক উট বোঝাই খাদ্য শস্য দিলেন এবং বিন ইয়ামিনের জন্যও এক উট…

Read More

রহস্য উদঘাটন

হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম আপন সন্তানদেরকে বললেন-আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না এবং ইউসুফের সন্ধান কর। সুতরাং ওরা পুনরায় মিসর গেল এবং ইউসুফ আলাইহিস সালামের খেদমতে হাজির হয়ে বলতে লাগলো, হে মিসরের অধিপতি। আমরা খুবই মুছিবতে আছি, আমাদের নগন্য পুঁজি গ্রহন করে অধিক খাদ্য শস্য প্রদান করুন এবং রিলিফ হিসেবেও কিছু দিন। হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম ভাইদের এ অনুনয় বিনয় শুনে ও দুঃখ ভারাক্রান্ত দেখে বললেন, তোমাদের কি স্মরণ আছে, তোমরা ইউসুফ ও ওর ভাই এর সাথে কি আচরণ করেছ? অর্থাৎ ইউসুফকে মারধর করা, কূপে ফেলে দেয়া, বিক্রি করা এবং…

Read More

ইউসুফের কামীছ

হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম ভাইদের কাছে আত্ম পরিচয় প্রকাশ করার পর তাঁর আব্বাজান হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের শারীরিক অবস্থার কথা জিজ্ঞেস করলেন। ওরা বললো, আপনার বিরহে তিনি কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে গেছেন। ইউসুফ আলাইহিস সালাম বললেন, আমার এ কামীছটা নিয়ে যাও। এটা আব্বাজানের মূখের উপর রাখিও, ইনশাআল্লাহ, তাঁর দৃষ্টি শক্তি ফিরে আসবে। হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের কামীছটির এ শান ছিল যে, কোন রোগীর উপর রাখলে, সে আরোগ্য হয়ে যেত। যাহোক, ওরা কামীছটা নিয়ে রওনা হলো। ইউসুফকে কূপে নিক্ষেপের পর ওনার রক্তমাখা কামীছ যে ইয়াকুব আলাইহিস সালামের কাছে নিয়ে গিযেছিল, সে…

Read More