সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের সঙ্গে সম্পর্ক, প্রত্যাখ্যান ও মামলার পেছনের ঘটনা: যা বলছে সুরভী প্রসঙ্গ
তাহরিমা জামান সুরভীর নামে দায়ের করা মামলাটি ঘিরে সম্প্রতি নানা আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে মামলার বাদী সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের সঙ্গে সুরভীর ব্যক্তিগত যোগাযোগ, বিরোধ এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের বিস্তারিত চিত্র।

মামলার বাদী নাঈমুর রহমান দুর্জয় আগে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর তিনি বর্তমানে কালবেলা পত্রিকায় কর্মরত বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, দুর্জয় ও সুরভীর মধ্যে একসময় ভালো সম্পর্ক ছিল। একই সার্কেলে তাদের আড্ডা চলত এবং দুর্জয় সুরভীকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন—সুরভীর মিডিয়া পরিচিতি ও নিজের সাংবাদিক পরিচয় কাজে লাগিয়ে দু’জন মিলে পেশাগতভাবে কাজ করার। তবে সুরভী সে প্রস্তাবে সম্মতি দেননি।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। অভিযোগ অনুযায়ী, একদিন দুর্জয় সুরভীকে মোটরসাইকেলে করে প্রথমে বিমানবন্দর এলাকা, পরে গাজীপুরের দিকে নিয়ে যান বিশেষ খাবার খাওয়ার কথা বলে। সেখানে গিয়ে দুর্জয় সুরভীর কাছে কুপ্রস্তাব দেন। সুরভী তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং পুনরায় এমন প্রস্তাব দিলে স্ত্রীকে জানিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
এর কয়েক দিনের মধ্যেই দুর্জয় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, সুরভী নাকি ৪ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন এবং ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। তবে পরে সাংবাদিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টিকে গণমাধ্যমে ‘৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি’ হিসেবে প্রচার করা হয়—যার কোনো উল্লেখ মামলার এজাহারে নেই বলে জানা গেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, দুর্জয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে তোলা একটি ছবি ব্যবহার করে নিজেকে তাঁর ঘনিষ্ঠ ও ‘সন্তানতুল্য’ হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং সেই প্রভাব দেখিয়েই সুরভীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেন। বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ কর্মরত থাকাকালে মূলত স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যক্রম কাভার করতেন তিনি।
ঘটনার দিন দুর্জয় অফিসের কোনো আনুষ্ঠানিক অ্যাসাইনমেন্ট ছাড়াই গাজীপুরে যান। সেখানে শহীদ হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে সুরভী তাকে দেখে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। পরে অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়, তিনি ব্যক্তিগত ও অনৈতিক উদ্দেশ্যে গাজীপুরে গিয়েছিলেন। এর জেরে বাংলাদেশ প্রতিদিন কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সুরভীর কাছে প্রত্যাখ্যান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ, জনসমক্ষে ‘ভুয়া’ স্লোগানের মুখে পড়া এবং সর্বোপরি চাকরি হারানোর ঘটনায় দুর্জয় ক্ষুব্ধ ও প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। সেই আক্রোশ থেকেই সংঘবদ্ধভাবে তথাকথিত ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালিয়ে সুরভীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীনভাবে ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রচার করা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।
