বৃহত্তর সুন্নি জোট: ৭০ আসনে প্রার্থী নিয়ে মাঠে

বৃহত্তর সুন্নি জোট: ৭০ আসনে প্রার্থী নিয়ে মাঠে

বৃহত্তর সুন্নি জোট: ৭০ আসনে প্রার্থী নিয়ে মাঠে

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের মাজারপন্থি ও সুফিবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনটি দল একত্রিত হয়ে গঠন করেছে ‘বৃহত্তর সুন্নি জোট’

এই জোটে রয়েছে—

  • ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)
  • বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট

কওমি ও মওদুদী মতাদর্শের বিপরীতে ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত’ অনুসারী এই জোট ইতোমধ্যে ৭০টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে। গত ৩০ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে তিন দলের সমন্বয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। জোট নেতাদের দাবি, দেশজুড়ে প্রায় ১২ হাজার দরবারের অনুসারীরা তাদের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন।

আসন বণ্টন অনুযায়ী—

শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আলোচিত বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত্ব-তাহেরী হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী চাঁদপুর-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচন করবেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মতিন চট্টগ্রাম-৯ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভাণ্ডারী চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন।

বৃহত্তর সুন্নি জোট: ৭০ আসনে প্রার্থী নিয়ে মাঠে
বৃহত্তর সুন্নি জোট: ৭০ আসনে প্রার্থী নিয়ে মাঠে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে দরবারভিত্তিক দলগুলোর একটি বড় অংশ আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপিকেন্দ্রিক ছিল। তবে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে বৃহত্তর সুন্নি জোট একটি উল্লেখযোগ্য ভোট ব্যাংক নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করতে পারে
জোট নেতাদের ভাষ্য, তারা আর বড় রাজনৈতিক দলের ‘সিঁড়ি’ হিসেবে থাকতে চান না।

বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মহাসচিব শাহ মোহাম্মদ আসলাম হোসাইন বলেন,

“বৃহত্তর সুন্নি জোটের মাধ্যমে এবার নিজেদের প্রকৃত ভোট শক্তি যাচাই করা হবে।”

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,

“১২ হাজার দরবারের মুরিদ ও ভক্তরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে অনেক আসনেই জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।”

অন্যদিকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মতিন বলেন,

“শুধু আওয়ামী লীগের ভোট নয়, দেশের ইসলামি মূল্যবোধ ও সুন্নি মতাদর্শে বিশ্বাসী জনগণই আমাদের প্রকৃত সমর্থক।”

জোটভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ প্রতীক ব্যবহার করবে—

  • ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ: চেয়ার,
  • বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি: একতারা,
  • বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট: মোমবাতি

চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে তিন দলেরই নিজস্ব ও সংগঠিত ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, এই জোটের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে নির্বাচনী মাঠে সংগঠিত প্রচারণা এবং স্থানীয় দরবারভিত্তিক অনুসারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ ও খুলনার কয়েকটি আসনে জোটটির জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে

আরো পড়ুন…..

Leave a Comment