মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে উন্নত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ‘ডার্ক ঈগল’ নামের অত্যাধুনিক হাইপারসনিক মিসাইল মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। এই মিসাইলটি উচ্চগতির কারণে শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ডার্ক ঈগল’ হাইপারসনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা শব্দের গতির কয়েকগুণ বেশি গতিতে চলতে পারে। এর ফলে প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এটি প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।
অন্যদিকে ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো কৌশলগতভাবে এমন দূরত্বে সরিয়ে নিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অস্ত্র ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পারছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন প্রজন্মের অস্ত্র ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।
‘ডার্ক ঈগল’ ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ২,৭৭৬ কিলোমিটারেরও বেশি বলে জানা গেছে। অনুমোদন পেলে এটি হবে এই অস্ত্রের প্রথম বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন, যা দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষাধীন ছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের অস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য বদলে যেতে পারে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে পুরো বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বলে জানা গেছে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
